উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯/০৬/২০২৬ ৮:২১ এএম

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম।

মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। শুরু থেকেই তনুর পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বে ছিলেন জাহিদ। বর্তমানে তার বয়স ৪৮ বছর। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

অপর আসামি শাহীন আলম হত্যার সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার বয়স ৩৭ বছর এবং তিনিও অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে সন্দেহভাজন এই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ চান। একই আবেদনে তিনি তনু হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তদন্ত-তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের অনুরোধ করেন। সোমবার মামলার ধার্য তারিখে আদালত এ আদেশ দেন।

তবে তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। আমরা কুমিল্লায় যাইনি। আদালত কী নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি এখনো জানতে পারিনি। আদেশের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন বা অবসরে পাঠানো হন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

নতুন তথ্য ও তদন্ত অগ্রগতি:
সম্প্রতি মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে মোট চারজনের নমুনা মিলেছে। আগে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও নতুন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তের নমুনা মিলেছে।

প্রেক্ষাপট:
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছাকাছি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...
Single Page Footer